১৯৭১ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে যাওয়ার কারণসমূহ
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও শুরু থেকেই দুই অংশের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য দেখা দেয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিপীড়নের ফলে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
পাকিস্তানের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (৫৬%) পূর্ব পাকিস্তানের হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বাঙালিদের কোনো প্রভাব ছিল না। সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একাধিপত্য ছিল।
১৯৪৮ সাল থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মনে স্বাধিকার ও স্বতন্ত্র জাতিসত্তার জন্ম দেয়।
পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের ব্যাপক পার্থক্য এবং শিল্পায়নে পূর্ব পাকিস্তানকে অবহেলা করায় অর্থনৈতিক অসন্তোষ চরম সীমায় পৌঁছায়।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করেন। এটিই ছিল পাকিস্তান বিভক্তির চূড়ান্ত কারণ।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে (অপারেশন সার্চলাইট) যুদ্ধের শুরু হয়, যা পাকিস্তানের ভাঙন নিশ্চিত করে।
পাকিস্তানের শোষকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অবিচার এবং অধিকার আদায়ে বাঙালিদের অনমনীয় সংগ্রামই শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের ভাঙন ত্বরান্বিত করে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।